মোট দেখেছে : 726
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

ডায়াবেটিস এর কারণ ও প্রতিকার

রক্তে সুগারের (ডায়াবেটিস) মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে দেহে কী ধরনের সমস্যা হয়, তা সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সকলেই অবগত। সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরে কেন সুগার বেড়ে যাচ্ছে, তা লক্ষ্য রাখা অনেক জরুরি। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হলো- ওষুধ সেবন, শরীর চর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। 

এবার জেনে নেয়া যাক শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়:

১) বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শরীর থেকে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য। সে কারণেই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়।

২) খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা শরীরে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষণ। সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে দেহে পানির ঘাটতি হয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

৩) যখন শরীর থেকে সুগার বের করে দেয়ার জন্য কিডনিতে চাপ পড়ে তখন ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। আর তখন কিডনি দেহের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। যার ফলে ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা পায়।

৪) হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৫) দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে দৃষ্টিশক্তির ওপর। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।

৬) ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৭) শরীরের কোনো অংশে কেটে বা ছিলে গেলে তা সহজে না শুকানো এবং শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ।

এই সব লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন আপনি ডায়বেটিসে ভুগছেন কি না।

যেসব কারণে রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়তে পারে:

ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা শৃঙ্খলা। সেই সঙ্গে নিয়মিত ওষুধ ও নিয়মতান্ত্রিক খাওয়া। ডায়াবেটিক রোগীরা চাইলেও সব ধরণের খাবার খেতে পারেন না। আবার কিছু খাবার খেতে পারলেও তা খুবই সামান্য পরিমানে। অনিয়ম যেমন রক্তে শর্করা বাড়ায়, তেমনি কিছু খাবার ডায়াবেটিক রোগীকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। নানা কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করা বা চিনি বেড়ে যায়।

• খাদ্য তালিকায় শর্করা জাতীয় খাবার (ভাত, বিরিয়ানি, রুটি, পরোটা) অধিক পরিমাণে থাকলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়।

• মিষ্টি জাতীয় খাবার (কেক, জ্যাম, জেলি, ঘনীভূত দুধ, সফট ড্রিঙ্ক, চায়ে চিনি, আইসক্রিম ইত্যাদি) নিয়মিত খেলে রক্তে সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

• ঘি, মাখন, ছানা, লাল মাংস বেশি খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়।

• ধূমপান, মদ্যপান, ফাস্টফুড রক্তে সুগার বাড়াতে পারে। 

• পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তে সুগার বাড়তে পারে। 

• দুশ্চিন্তা ডায়াবেটিক রোগীদের প্রধান শত্রু। এটা শুধু রোগীর রক্তে শর্করাই বাড়ায় না, এ রোগ জন্ম দিতেও ভূমিকা রাখে।

• ডায়াবেটিক রোগীদের অল্প অল্প করে বারে বারে খাবার খেতে হয়। দীর্ঘ সময় খাবার না খেয়ে একবারে বেশি খাবার খেলে রক্তে সুগার বেড়ে যায়।

• সাদা চালের ভাত টাইপ ২ ডায়াবেটিক রোগীদের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা চালের খাবার খেলে প্রতিদিনই ঝুঁকি ১১ শতাংশ হারে বেড়ে যায়। এ খাবার চিনির মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে বাদামি চালের খাবার খেতে পারেন। এতে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

• সিরাপ, সুগার এবং ক্রিমসমৃদ্ধ ব্লেন্ডেড কফি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক কাপ ব্লেন্ডেড কফিতে ৫০০ ক্যালরি, ৯৮ গ্রাম কার্বহাইড্রেট এবং ৯ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এর পরিবর্তে নন-ফ্যাট সংস্করণ কফি বেছে নিন।

• সব তরতাজা ফলেই ভিটামিন ও ফাইবার রয়েছে। কিছু ফলে সুগার অনেক বেশি থাকে। কলা, তরমুজের পুষ্টিগুণ ভালো থাকলেও এতে গ্লুকোজের পরিমাণ প্রচুর। রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ব্লুবেরি এবং বেরি জাতীয় ফল বেশি খান।

• শারীরিক পরিশ্রম না করলে ডায়াবেটিক রোগীর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আপনি যতটুকু খাবেন ততটুকু পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। ঘরের টুকটাক কাজ করুন। প্রতিদিন সকাল-বিকাল নিয়ম করে অন্তত একঘণ্টা হাঁটুন ও হালকা ব্যায়াম করুন। হাঁটার সময় চেষ্টা করুন প্রতি সেকেন্ডে তিন কদম ফেলতে। কারণ, শুধু হাঁটলেই হবে না, আপনাকে ঘাম ঝরাতে হবে।

• চাইনিজ খাবার মুখরোচক হলেও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। এতে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।

• সকালের নাস্তায় ফলের রস খুব স্বাস্থ্যকর হলেও তা ডায়াবেটিক রোগীর জন্য হুমকি। তা ছাড়া দোকানে পাওয়া যায় এমন ফলের রসে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। এর বদলে কম সুগার রয়েছে এমন ফলের একটি বা দুটি টুকরো খেতে পারেন।

• ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ মারাত্মক খাবার। একটু বেশি পরিমাণ খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাবে। ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন একে এড়িয়ে চলতে বলেছে।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ