মোট দেখেছে : 532
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত পর্যটনে অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানী (ভিডিও)

মোঃ আব্দুল্লাহ রিয়াদ,বাশঁখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। সারি সারি ঝাউবাগান ও বিস্তৃর্ণ সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত পর্যকটদের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিয়েছে এ অঘোষিত পর্যটন স্পটকে। 

সূত্রমতে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম একটি আলোচিত উপজেলা বাঁশখালী। এ উপজেলার পূর্ব দিকে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী সমুদ্র চর। এখানে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট। বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের ন্যায় এখানে এসে ভিড় জমান। এখানে অবস্থিত পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে ইকোপার্ক, চা-বাগান ও উপকূলে সুবিশাল এলাকা জুড়ে ঝাউবাগান বেষ্টিত সমুদ্র সৈকত। অন্যান্য পর্যটন স্পট গুলোর পাশাপাশি সরকার যদি বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত ও ঝাউবাগানের যথাযথ তদারকি করেন তাহলে বাঁশখালীর উপকূলেই হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। সম্প্রতি সময় উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ প্যারাবন বিলীন হতে চললেও তা রক্ষায় কার্যত কোন পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের। সরকারের যথাযথ নজরদারির অভাবে এই সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রূপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিগত দিনে বাঁশখালী উপকূলীয় সমুদ্র উপকূলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রূপ দেওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। অথচ কক্সবাজারের বিকল্প সমুদ্র সৈকত হিসাবে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতকে রূপায়িত করতে পারলে সরকার অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতো তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে শুরু করে গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ এলাকার বিশাল সমুদ্র সৈকতে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশি ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে ওই সব ঝাউবাগান (প্যারাবন)। 

এদিকে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় ঝাউবাগান ও ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে নানা ভাবে বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। ফলে বিগত দিনে সৃজিত ঝাউবাগান যেখানে রয়েছে সেখানকার উপকূলীয় এলাকা অনেক মজবুত রয়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা ও ছনুয়া এলাকার উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। একদিকে বনায়নের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ না থাকা, অন্যদিকে যথাযথ তদারকির অভাবে ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার অভাবে বনায়নকৃত এলাকায় গাছ সংরক্ষণ না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এই উপকূলীয় নয়নাভিরাম ঝাউবাগান। 

বাঁশখালীর পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে শীলকূপে অবস্থিত ইকোপার্ক, পুকুরিয়ার চা-বাগান ও উপকূলীয় এই ঝাউবাগান বেষ্টিত সমুদ্র সৈকত উল্লেখ যোগ্য। অথচ এসব পর্যটন স্পট গুলোর যথাযথ সংস্কার, তদারকি ও ভালভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা করা হলে দেশের রাজস্ব আয়েও অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে এই পর্যটন স্পট গুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকদের একটাই দাবী এসব পর্যটন স্পটগুলো যাতে অবিলম্বে সংস্কার করা হয়। তারা এজন্য যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা ও এলাকার প্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।



আরো দেখুন

আরও সংবাদ