মোট দেখেছে : 48
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরলেন ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ শাম্মী ও নিশাত

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরলেন ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ শাম্মী ও নিশাত

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতে মাসব্যাপী উচ্চতর ‘কেশসজ্জা প্রশিক্ষণ’ শেষে গত ২ মার্চ দেশে ফিরেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শাম্মী ও নিশাত। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন দারুণ সব অভিজ্ঞতা, সমাজ বদলে দেওয়ার প্রত্যয় আর অসাধারণ সব স্বপ্ন। কেশসজ্জা বিষয়ে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্পেশালিস্ট জাভেদ হাবিব প্রতিষ্ঠিত হাবিব একাডেমি থেকে। 

উড়োজাহাজ দেশের মাটি স্পর্শ করতে না করতেই ওদের চোখ ভিজে আসে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায়। বিমান থেকে অবতরণ করছিলেন আর ভাবছিলেন যেন আপেক্ষিক অর্থেই ভিন্ন এক জগৎ ছেড়ে আলোর জগতে অবতরণ করা জীবনের কথা। সেই আবেগে অশ্রু টলমলে চোখে কৃতজ্ঞতার সবটুকুই উজাড় করে দিচ্ছিলেন উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমানকে।

দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বলেন, এককথায় অসাধারণ। আমি অভিভূত, উচ্ছসিত। এই প্রশিক্ষণ আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। আসলে কত বড় পরিসরে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে এই প্রশিক্ষণ না পেলে তা বুঝতেই পারতাম না। বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্পেশালিস্ট জাভেদ হাবিব প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। পাশে ডিআইজি হাবিবুর রহমান।আমরা শিখেছি, সমাজের মূল স্রোতে মিশে গিয়ে কী করে বাঁচতে হবে। সমাজে মর্যাদা আর মূল্যবোধ নিয়ে বাঁচতে হবে।

নিশাত বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আশুলিয়ায় উত্তরণের প্রথম বিউটি পার্লারটি পরিচালনা করে আসছিলেন শাম্মী। সমাজের তাচ্ছিলের হিজড়া থেকে বিউটিশিয়ান পরিচয়ে তার সাফল্য আমাকে আলোড়িত করে। যোগাযোগ করলাম। আমাকে সুযোগ দেওয়া হলো। আজ আমি গর্বিত।

চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি উত্তরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উচ্চতর কেশসজ্জা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে দেশে ছেড়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের দুই সদস্য শাম্মী ও নিশাত। কলকাতায় অবস্থিত জাভেদ হাবিব একাডেমিতে ৩০ দিনের উচ্চতর কেশসজ্জা বিষয়ক প্রশিক্ষণটি তাদের আরো বেশি আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলেছে বলছিলেন শাম্মী ও নিশাত।

সব কৃতজ্ঞতা পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্যারের। আজ তার অদম্য প্রয়াস আর চেষ্টাতেই আমরা আলোর পথে। আমাদের দেখাদেখি হিজড়াদের অনেকেই আজ স্বপ্ন দেখছে আত্মনির্ভরশীলউত্তরণ ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টেনে তোলা আমাদের দায়িত্ব। কারণ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এই মানুষদের কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ