মোট দেখেছে : 91
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের পণ্য রপ্তানিতেও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে। কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে এমনটি বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি বলেন, ভারতের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের যৌক্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দিল্লি ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে এই সুবিধার আওতায় বছরে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিনাশুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধার আওতায় থাকা তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটি। ওয়াশিংটন মনে করছে, তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাওয়ার শুল্কমুক্তবাণিজ্যের সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা এখন আর দেশটির নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টায় আছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস বা জিএসপির আওতায় তালিকাভুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু নির্দিষ্ট পণ্য বিনাশুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার পায়।

এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত ঠিক করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। পণ্যের মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রেও ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রবেশাধিকারের মত বিষয় থাকে এসব শর্তের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ভারত ও তুরস্ক নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে পারছে না।যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি থেকে বিশ্বে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, ভারত তার একটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে এল। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এখন ভারত ও তুরস্ককে এ বিষয়ে নোটিশ দেবে। তারপর দুই মাসের মধ্যে জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর আগে রানা প্লাজা ধ্বসের পর তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজারসুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করে তৎকালীন ওবামা প্রশাসন। পরিবেশের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত আদেশটি বহাল আছে। তবে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জিএসপি ফিরে পেতে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা মার্কিন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বিজিএমইএ পরিদর্শন করতে এলে তার কাছে জিএসপি ফিরে পাওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি। রবার্ট মিলার এ সংক্রান্ত আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেশি দেশ ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিলের পর বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা ফিরে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের শতভাগ কারখানায় বর্তমানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ রয়েছে। শুধু তাই নয় আমাদের রয়েছে বিশ্বসেরা সব গ্রীন ফ্যাক্টরি। ক্রেতাজোট একর্ড-এ্যালায়েন্সও আমাদের কারখানা সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আমরা নিশ্চিত করেছি। তাই আমরা মনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। আমরা দেশটির কাছে আবেদনও করেছি। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দেশটি থেকে কটন আমদানি সহজতর করাসহ ওখানে স্পিনিং কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেছি। আশা করছি একটি ইতিবাচক ফলাফলই আসবে। তবে ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে ইউরোপের বাজারে আমাদের রফতানি কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ