মোট দেখেছে : 158
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

সোহরাওয়ার্দীতে পুরাতনের সঙ্গে আসছে নতুন রোগী

সোহরাওয়ার্দীতে পুরাতনের সঙ্গে আসছে নতুন রোগী

ডেস্ক রিপোর্ট : অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক কাটিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালটিতে ফিরে আসছেন পুরাতন (ভর্তি থাকা) রোগীরা। সেই সঙ্গে জরুরি বিভাগে নতুন রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসছেন।


বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগুন লাগার পর রাত ১০টার পরপরই হাসপাতালটিতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে পুরোপুরি চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে হাসপাতালটিতে।


আগুন লাগার পর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ১৭৮ জন রোগী অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এসব রোগীর মধ্যে ৭১৮ জন আজ দুপুর আড়াইটার মধ্যে হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসা সেবা নিতে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন।


শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায়, হাসপাতালটির গেটের পাশেই চেয়ার-টেবিল পেতে ডেক্স বসানো হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক চিকিৎসক ও নার্স। এখান থেকেই পুরাতন রোগীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।


পুরাতন রোগীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা এক নার্স বলেন, ‘আগুন লাগার আগে আমাদের এখানে যারা ভর্তি ছিলেন তারা আসলেই আমরা আবার চিকিৎসা শুরু করছি। রোগীর কাগজপত্র আমাদের কাছে আনলেই আমরা তা দেখে যে ওয়ার্ডে পাঠানোর দরকার সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার পর আমাদের হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ১৭৮ জন রোগী অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে শুক্রবার আড়াইটা পর্যন্ত ৭১৮ জন রোগী ফিরে এসেছেন। পাশাপাশি আজ নতুন রোগীও চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন।’


নতুন রোগী ভর্তির বিষয়ে হাসপাতালের অনুসন্ধান বিভাগে দায়িত্ব পালন করা গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুরাতন রোগীদের পাশাপাশি নতুন সব ধরনের জরুরি রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু হয়েছে। আজ জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত ১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।’


এই কর্মকর্তা বলেন, আপাতত আমরা ১১ নম্বর ওয়ার্ড (শিশু), ৮ নম্বর ওয়ার্ড (মহিলা সার্জারি) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে (মহিলা) রোগী ভর্তি করছি না। তবে এই ওয়ার্ডগুলোতে যে ধরনের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো তাদের অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎিসা দেয়া হচ্ছে।


সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালের রোগী ভর্তি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম মোস্তাফা বলেন, ‘সাধারণত প্রতিদিন এখানে ৯০ থেকে ১৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হন। তবে শুক্রবার রোগীর পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। শুক্রবার সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি হন।’


হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী ৮ নম্বর ওয়ার্ড (মহিলা সার্জারি) পরিচ্ছন্নের কাজ করছেন। এই ওয়ার্ডটিতে আগুনে পোড়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে এর সামনেই থাকা আর একটি ওয়ার্ডের সর্বত্রই আগুনে পোড়ার দৃশ্য দেখা যায়। ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই নাগে ভেসে আসছে পোড়া গন্ধ।


এখানেই কথা হয় মো. আব্দুস শহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার মা জেলেহা খাতুন (৮০) ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। আগুন লাগার পর আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমার মাকে কারা ওয়ার্ড থেকে বের করেছেন তা-ও জানিনা। এক-দেড় ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালের মাঠে মাকে পাই। এরপর এখান থেকে আমাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো বেড পাইনি। আমার মা সার্জারি রোগী, তাই হাসপাতালের বারান্দায় না রেখে আমার মোহাম্মদপুর কাটাসুরের বাসায় নিয়ে যায়। বাসা থেকে আজ সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসলে মাকে অন্য একটি ওয়ার্ডে দিয়ে দিয়েছে।’


জরুরি বিভাগের গেট দিয়ে প্রবেশ করেই হাতের ডানে একটি রুমের বারান্দায় এক বৃদ্ধ রোগীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী। কথা হয় ওই নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোগী আমার স্বামী মফিজুল রহমান। স্ট্রোক করায় দুইদিন আগে উনি এখানে ভর্তি হয়েছেন। প্রথম থেকেই এই স্থানটিতে ওনাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল আগুন লাগার পর আমরা গাজিপুরের বাসায় চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আজ আবার ফিরে এসেছি।’



বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, তৃতীয় তলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও নিচতলায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।


এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন লেগেছিল, যা স্টোর রুমে ছড়িয়ে পড়েছিল।


বৃহস্পতিবারই আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমারকে প্রধান করে সাত সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা এক নারী চিকিৎসক বলেন, ‘নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থেকে যে সব রোগী সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য রোগীরাও আসছেন। এদের সঙ্গে নতুন রোগীও ভর্তি হচ্ছেন। তবে শুক্রবার হওয়ায় আজ বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ। আগামীকাল থেকে জরুরি বিভাগের পাশাপাশি বহির্বিভাগেও চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।’

আরো দেখুন

আরও সংবাদ