মোট দেখেছে : 156
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

পোর্ট কানেক্টিং রোডর বেহাল দশা,দুর্ভোগে জনসাধারণ


নিজস্ব প্রতিনিধি:



কোথাও ছোট-বড় গর্ত, কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, আবার কোথাও বোঝার উপায় নেই সড়ক না খাল । বলছি নগরীর পোর্ট কানেক্টিং রোডের কথা। কখনো পানিতে ডুবে থাকা আবার কখনো মরুভূমির মতো ধুলোর ঝড় উঠা এ রাস্তা এখন হালিশহরবাসীর কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


রবিবার (২৭ জানুয়ারি) নগরীর পোর্ট কানেক্টিং রোড সরেজমিন ঘুরে দেখা মেলে দূর থেকে কোন বহুতল ভবনের ছাদে উঠে এ সড়কটির দিকে তাকালে মনে হবে রাস্তার গাড়ি যেন সাগরের ঢেউয়ে দুলছে। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় গর্ত আর রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনাসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় এ রাস্তায় চলাচলকারি গাড়ি চালকদের। অতিরিক্ত ধুলোর কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও ভুগতে হচ্ছে এই এলাকার বাসিন্দাদের। তাই এ রাস্তায় নামলে মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।


রমিজ নামে এক বাস চালক জানান, রাস্তার দু’পাশ জুড়ে গত দুবছর ধরে চলছে সড়ক মেরামত ও উন্নয়নের কাজ। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলা আর কাজের প্রতি উদাসীন হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। শুধু রাস্তায় নয় ধুলোর কারণে গাড়িতেও বসতে হয় মাস্ক পরে। এরপর আবার ভাঙা রাস্তার গর্তে পড়ে কখনো কখনো উল্টে যায় গাড়ি। সব মিলিয়ে এ রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয় আমাদের। গত কয়েক দিন আগেও গর্তে পড়ে আমার গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে আমার মত আরেকটি লরি এ রাস্তায় উল্টে গিয়েছিলো যার নিচে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল ৩ সিএনজি ট্যাক্সিযাত্রী।


কথা হয় ধুলোর কারণে মুখে মাস্ক পরে থাকা দুই শিক্ষার্থীর সাথে। রুমি আক্তার ও নীলা মজুমদার নামে এই দুই শিক্ষার্থী জানান, গেল ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা হালিশহরবাসী নরক যন্ত্রণা ভোগ করছি। মুখে মাস্ক না পরে আপনি এ রাস্তায় ৫ মিনিটিও চলাচল করতে পারবেন না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মাস্ক পরতে হয়। আর আমাদের মতে পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সব থেকে দূষিত জায়গা এই হালিশহর। এছাড়া রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে দুর্ঘটনার ভয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। জানি না এ নরক যন্ত্রণা থেকে আমরা হালিশহরবাসী কখনো মুক্তি পাবো কিনা।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর নীমতলা এলাকা থেকে অলংকার পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজটি নেয় রানা বিল্ডার্স ও সালেহ আহমেদ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করতে চসিকের সাথে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিমূল্য ছিল ৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকারও বেশি। কাজ সমাপ্তির তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ১৩ মে। তবে চুক্তির আর মাত্র চার মাস বাকি থাকলেও কাজের সিংহ ভাগ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।


স্থানীয়দের দাবি, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির যেন এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তাদের বাঁচতে সাহায্য করেন। অন্যথায় এ হালিশহর একদিন বাংলাদেশের মধ্যে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য এলাকা হিসেবে পরিণত হবে।


আরো দেখুন

আরও সংবাদ