মোট দেখেছে : 99
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

ইসলামী ছাত্রসেনার অগ্রযাত্রা, ইতিহাসের সন্ধানে : পর্ব ১

 সৈয়্যদ মুহাম্মদ জাহিদ ক্বাদরী: 


১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাত্তরের পরাজিত ঘাতকচক্র তাদের ধার্মিকতার মুখোশের আড়ালে নবীদ্রোহি তৎপরতার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে অগ্রসর হয়। এ লক্ষ্যে সেই নবীদ্রোহী চক্র চট্টগ্রাম সহ দেশের আনাচে কানাচে নানা উপায়ে সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষদের মাঝে পবিত্র কোরআন এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রিয় হাবীবে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার শানে অবমাননা শুরু করে। তখনকার চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশাইখ গণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন ছোট ছোট সংগঠনের নামে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকেন। ১৯৭৭ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রামের ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মোহাদ্দিছ আল্লামা শাহ আলাউদ্দিন (রঃ) তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে “জমিআতে তোলাবায়ে আরাবীয়া” নামে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে অবস্থানরত আওলাদ এ রাসূল (দরুদ) হযরত আল্লামা সৈয়দ আবিদ শাহ আল মাদানী (রঃ) “হিজবুর রসুল” নামে একটি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকায় আল্লামা খাজা আবু তাহের নকশেবন্দী (রঃ) “আনজুমানে আশেকানে মোস্তফা”-র ব্যানারে সুন্নী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে রত থাকেন। এভাবে সুন্নী ওলামায়ে কেরামগণ ও পীর মাশাইখ গণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে নাম জানা অজানা সংগঠন বা ওয়াজ মাহফিল করে সাধারণ সুন্নী জনতাকে সচেতন করতে ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে অগ্রসর ভূমিকা রাখেন চট্টগ্রাম ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মোহাদ্দিছ আল্লামা শাহ আলাউদ্দিন (রঃ) ছাহেব। ১৯৭৮ সালের পহেলা মহররম তাঁর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রামের তৎকালীন প্রথিতযশা শিল্পপতি আলহাজ্ব ইসলাম মিয়া টি,কে সাহেবকে উন্মুক্ত মঞ্চে ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অবহিত করেন ও এ সংগঠন-কে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে তাঁর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ইসলাম মিয়া টি,কে সাহেব বিষয়টি জেনে আনন্দিত হন এবং অবারিত হস্তে একে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হযরত আল্লামা সৈয়দ শামসুল হুদা (রঃ) ও একমত প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য পরবর্তীতে অধ্যক্ষ সৈয়দ শামসুল হুদা (রঃ) বিশাল ভূমিকা পালন করেন। মোহাদ্দিছ আলাউদ্দিন সাহেবের প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠন জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবীয়া নাম পরিবর্তন করে “জমিয়তে তোলাবায়ে আহলে সুন্নাত” নাম রাখা হয়। এ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অধ্যক্ষ সাহেব মাদ্রাসার দোতলায় অবস্থিত ৯ নং কক্ষ অনুমোদিত করেন। এখানে ধীরে ধীরে সুন্নী ছাত্ররা বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন সংগঠনটি এই মাদ্রাসায় গন্ডিবদ্ধ না রেখে চট্টগ্রামের অন্যান্য সুন্নী মাদ্রাসায় ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন অন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সিনিয়র ওলামা মাশাইখ দের কাছে এ ব্যাপারে দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন মাদ্রাসায় দাওয়াত নিয়ে গেলে কেউ কেউ একমত পোষণ করেন। আবার কেউ কেউ সংগঠন করতে দ্বিধা করেন। শুরুতে শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ দফায় দফায় বৈঠক করেন। এবার তাঁরা সম্মিলিত ভাবে বৈঠকে বসেন আহলা দরবার শরীফের হযরত আবুল মোকাররম নুরুল ইসলাম (রঃ)’র স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম কলেজের প্যারেড ময়দানের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে দেব পাহাড় এলাকার খানকায়ে নূরীয়াতে। ঐ সভার আহ্বায়ক ছিলেন মোহাদ্দিছ আল্লামা শাহ আলাউদ্দিন। আর সভাপতিত্ব করেন আহলা দরবার শরীফের তৎকালীন সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত হযরত সেহাব উদ্দীন খালেদ আল কাদেরী সাহেব। উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী, আল্লামা মুফতী মোজাফফর আহমদ, আল্লামা জাফর আহমদ ছিদ্দিকী, আল্লামা জালাল উদ্দীন আল কাদেরী, মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী প্রমুখ প্রথিতযশা সুন্নী ওলামায়ে কেরামগণ। সেই বৈঠকে নামকরণের প্রসঙ্গ আসলে দু একজন পূর্বের নাম বহাল রাখতে মতপ্রকাশ করেন। অধিকাংশ মত দেন যেহেতু এই সংগঠনটি শুধু মাদ্রাসার গন্ডিতে আবদ্ধ না রেখে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে, সেহেতু বাংলায় নাম রাখা উচিত। আল্লামা জাফর আহমদ ছিদ্দিকী প্রস্তাব করেন “শিবির” মানে তাঁবু দখল করতে হলে “ছাত্রসেনা” প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর উপস্থিত সবাই সাথে সাথেই তাঁর প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। এভাবে শুরু হয় ছাত্রসেনা’র যাত্রা।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ